Advertisements

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। প্রাদুর্ভাবের প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও এখনো কোনো টিকা আবিষ্কার না হওয়ায় দুশ্চিন্তা কাটছে না কারোরই। জোর দমে চলছে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা। ভাইরাসটি আক্রান্ত ব্যাক্তির ফুসফুস এবং শ্বাসনালীতে আক্রমণ করে বলে জানিয়ছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাই এমন অবস্থায় চাই ফুসফুসের সুস্থতার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখা। কেননা ফুসফুস যদি আগে থেকে সুর্বল থাকে তাহলে করোনা আক্রমণ করলে মৃত্যুর সম্ভাবনাই বেশি থাকে। আজকের লেখায় জেনে নেবো ফুসফুস সুস্থ রাখার কিছু উপায়-

সকালে নাশতা করার আগে ৩০০ মিলিলিটার পানির সঙ্গে ২টি লেবুর রস চিপে পানির সাথে মিশিয়ে পান করুন।

আঙুর, আপেল বা আনারসের জুস বানিয়ে পান করুন, কারণ এসব ফলের জুসে রয়েছে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের দেহের শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার পদ্ধতিকে উন্নত করে।

সকালের নাশতায় ও দুপুরে খাওয়ার সময়ে খাদ্য তালিকায় রাখুন গাজরের জুস। গাজরের জুস দেহের রক্তে ক্ষারের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় কলার জুস, নারকেলের শ্বাস, পালংশাক খেতে পারেন কারণ এই খাবারগুলোর মধ্যে আছে পটাশিয়াম যা দেহের বিষাক্ত টক্সিন পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

রাতে ঘুমানোর আগে আপনি ১ কাপ গ্রিন টি পান করুন। এই চা পানের মাধ্যমে আপনার দেহ থেকে সমস্ত টক্সিন বের হয়ে যাবে যা দেহের জন্য ক্ষতিকর। এই পদ্ধতি মেনে চলার সময় এমন কোন কাজ করা যাবেনা যা ফুসফুসের ওপরে চাপ প্রয়োগ করে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়াতে কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত:

বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়া।
ধূমপান, মদ্যপানের মতো নেশা ছেড়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা।
খাবার আগে ভালো করে হাত সাবান দিয়ে ধুতে হবে। অকারণে মুখে-নাকে-চোখে হাত না দেওয়া।

হাঁচি, কাশি, গলাব্যথা বা সর্দি-জ্বর হলে অবশ্যই আলাদা থাকা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।

ভিটামিন-এ জীবাণুদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। তবে ট্যাবলেট ক্যাপসুল নয়, খাবারে থাকা ভিটামিনই ভালো। ভিটামিন-এ পাওয়া যায় গাজর, কমলালেবু, টমেটো, ডিমের কুসুম, পালংশাক, রাঙা আলু, ব্রোকোলি-সহ নানা টাটকা ফল ও সবজিতে।

ফুসফুসকে রক্ষা করতে পারে তুলসিপাতা। বাতাসে থাকা ধূলিকণা শোষণ করতে পারে তুলসিগাছ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অল্প করে তুলসীপাতার রস খেলে শরীরের শ্বাসযন্ত্রের দূষিত পদার্থ দূর হয়।
আমলকিসহ সব ধরনের লেবুতে থাকা ভিটামিন-সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

নিয়মিত গোলমরিচ খান আপনার শ্বাস কষ্ট থাকবে না।
ফুসফুসের জন্য আদা-রসুন খুবই ভাল। আদা-রসুন ফুসফুস পরিষ্কার রাখে ও কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

অ্যাজমা ও ব্রংকাইটিসের মতো অনেক শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় কার্যকর হতে পারে গুড়। তিলের সঙ্গে গুড় মিশিয়ে খেলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।
এই সব কিছুর সাথে সবথেকে যেটা জরুরি সেটা হলো অযথা ভয় পাবেন না। বরং সমস্যার সম্মুখীন হলে যতো শীঘ্রই সম্ভব ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। এতে বিপদের ঝুকি অনেকাংশেই কমে যাবে।

Translate »