বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের আর নেই

Advertisements

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, অভিনেতা, ব্যবসায়ী ও কলামিস্ট আলী যাকের মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার দিনের আলো ফুটতে না ফুটতেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। খবরটি নিশ্চিত করেছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। তিনি জানান, ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে মারা গেছেন আলী যাকের।

গোলাম কুদ্দুস আরও জানান, ‘পারিবারিকভাবে এখনও আলী যাকেরের দাফনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। উনাকে বিদায়ের জন্য সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিকতার সুযোগ পাচ্ছি না। কারণ, উনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।’

বার্ধক্য, হার্টের সমস্যাসহ কিছু শারীরিক জটিলতার কারণে গত ১৭ নভেম্বর আলী যাকেরকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে সিসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। এছাড়া গত চার বছর ধরে তিনি ক্যানসারে ভুগছিলেন। সেই চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিয়মিত তার থেরাপি চলছিল। তারই মধ্যে আবার তিনি করোনায়ও আক্রান্ত হন। এরপর তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল।

হাসপাতালে ভর্তির আগে বেশিরভাগ সময় বাসাতেই কাটাতেন আলী যাকের। সেখানে তাকে হুইল চেয়ারের মাধ্যমে চলাফেরা করতে হতো। চার বছর আগে শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ার পর থেকেই তিনি অভিনয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়েন। কাজ করেননি মঞ্চেও। বলতে গেলে, অভিনয় তিনি একেবারেই ছেড়ে দিয়েছিলেন। এবার ছাড়লেন পৃথিবীও।

১৯৭২ সালের আরণ্যক নাট্যদলের ‘কবর’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অভিনয় জগতে পথচলা শুরু হয়েছিল আলী যাকেরের। ১৯৭৩ সালে তিনি যোগ দেন নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে। টিভির পর্দায় ‘আজ রবিবার’, ‘বহুব্রীহি’, ‘তথাপি’সহ বহু দর্শকপ্রিয় নাটকে তাকে দেখা গেছে।

অভিনয়ের বাইরে আলী যাকের নাটক নির্দেশনা ও লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত। এছাড়া তিনি একজন নাট্য সংগঠকও। ‘অচলায়তন’, ‘বাকী ইতিহাস’, ‘সৎ মানুষের খোঁজে’, ‘তৈল সংকট’, ‘এই নিষিদ্ধ পল্লীতে’, ‘কোপেনিকের ক্যাপ্টেন’সহ বেশ কয়েকটি মঞ্চ নাটকে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।

শিল্পকলায় অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদক, নরেন বিশ্বাস পদক এবং মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেছেন।