লরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৩

Advertisements

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে তেলবাহী লরির সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারীসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, অটোরিকশাচালক জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), যাত্রী ইয়াসমিন আক্তার রুমা (৩৮) ও মামুন হোসেন (৩৫)।

মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছে চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, সোমবার ফরিদগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতালে রুমার ভাই অপুর এপেন্ডিসাইটিস অস্ত্রোপাচার হয়। রাতভর ভাইয়ের সেবা করে ভোরে অটোরিকশাযোগে গৃদকালিন্দিয়ার নিজ বাসায় ফিরছিলেন রুমা। অটোরিকশাটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় পৌঁছালে রায়পুর থেকে আসা মেঘনা গ্রুপের তেলবাহী লরির সাথে মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে লরি ও অটোরিকশা পাশের খালে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ইয়াসমিন আক্তার রুমা ও জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার তৎপরতা চালায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মামুনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর মামুনের মৃত্যু হয়।

নিহত ইয়াসমিন ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের চরবড়ালী গ্রামের আব্দুস ছোবহান স্বপনের স্ত্রী। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জননী ছিলেন।

নিহত জাহাঙ্গীর রায়পুর উপজেলার চরমোহন ইউনিয়নের মনীর মুন্সীর ছেলে। তিনি তিন ছেলে সন্তানের জনক ছিলেন।

এছাড়া নিহত মামুন ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের শোল্লা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদ হোসেন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর লরির চালক পালিয়ে যায়। পুলিশ অটোরিকশাটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। ঘটনাস্থলে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

এর তিন আগে গত ২৯ নভেম্বর রবিবার ফরিদগঞ্জ চাঁদপুর সড়কের ধানুয়া এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১ জন নিহত হন।