‘গোল্ডেন মনিরের’ এক মামলায় দুদকের চার্জশিট অনুমোদন

Advertisements

বিপুল অর্থ, অস্ত্র ও মদসহ র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে আট বছর আগে ‘অবৈধ সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে তিন কোটি ১০ লাখ ৮৫ হাজার ৩৩৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনেছে দুদক। খুব তাড়াড়াড়ি এই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামি মো. মনির হোসেন ২০০৯ সাল পর্যন্ত অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা বৈধ করার জন্য বিভিন্ন ভূয়া ব্যক্তিদের নিকট হতে ‘দানপ্রাপ্ত’ হয়েছেন মর্মে যে দাবি করেছেন, তদন্তে তা ভূয়া প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যদিকে ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের বিভিন্ন সুবিধার আওয়াতায় ১ কোটি ৪৯ লাখ ৮৫ লাখ ৩৩৫ টাকার সম্পদের তথ্য তিনি হিসাব বিবরণীতে দিয়েছেন, যার কোনো ‘বৈধ উৎস’ পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জানা যায়, ২০১২ সালে মনিরের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠায় কমিশন। নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সাল পর্যন্ত নিজের সম্পদের হিসাব বিবরণী কমিশনে জমা দেন তিনি। সে বছরের ১৩ মার্চ রমনা মডেল থানায় গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে মামলাটি করে দুদক।

উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে মামলাটির সময় ক্ষেপণ হয়েছে উল্লেখ করে দুদকের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, মামলাটির দায়িত্বে থাকা সহকারী পরিচালক বদলি হওয়ার কারণেই এই বিলম্ব।

গত ২৬ নভেম্বর দুদক পরিচালক আকতার হোসেন আজাদের স্বাক্ষরে গোল্ডেন মনির ও তার স্ত্রীকে সম্পদের হিসেব দিতে নোটিশ পাঠায়। ওই নোটিশে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদের বিবরণী দাখিল করতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরে ২০ নভেম্বর মনিরের মেরুল বাড্ডার বাড়িতে অভিযান চালায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান-র্যাব। অভিযানে মনিরের বাড়ি থেকে নগদ এক কোটি নয় লাখ টাকা, আট কেজি সোনা, একটি বিদেশি পিস্তল, চার লিটার মদ উদ্ধার ও এসময় মনিরকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।

অভিযানের বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ, অন্ত্র ও মাদকের সঙ্গে মনিরের বাড়িতে পাঁচটি গাড়ির সন্ধান পায় র্যাব, কিন্তু তিনটি গাড়িরই কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি মনির।

র্যাব মনিরের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা করে ওই সময়। জানা যায়, এই মামলাগুলো তদন্ত করছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। এছাড়া রাজউকের সিল নকল করে ভূমি দখলের অভিযোগেও একটি মামলা হয় মনিরের বিরুদ্ধে।