অভিবাসনসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে নির্বাহী আদেশ জারি বাইডেনের

Advertisements

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিমালা থেকে সরে আসার কঠিন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। একের পর এক নির্বাহী আদেশ জারি করেও যুক্তরাষ্ট্রকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে বাইডেনকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নাগরিক আন্দোলনের জের ধরে ফেডারেল অর্থ বরাদ্দ সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্প তাঁর ক্ষমতার শেষ দিকে পৃথক এক নির্দেশনায় পেশাদার কর্মজীবীদের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন গতকাল বুধবার নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ট্রাম্পের এসব বৈরী নীতি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে মুক্ত করার প্রয়াস নিয়েছেন।

গত বছরের মে মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের নিহত হওয়ার জেরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। করোনা মহামারির মধ্যেও বড় বড় নগরীতে আন্দোলন হয়। এই আন্দোলনে কোথাও কোথায় সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই কৃষ্ণাঙ্গ আন্দোলনকে দমন করার হুমকি দেন। যেসব নগরীতে ব্যাপক আন্দোলন হয়, সেখানকার পরিস্থিতিকে ‘আইনশৃঙ্খলাহীন’ বলে অভিহিত করেন ট্রাম্প। এ অজুহাতে সেসব অঙ্গরাজ্য বা নগরীতে ফেডারেল অর্থ বরাদ্দ সীমিত করার নির্বাহী আদেশ দেন তিনি। রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন নগরীর প্রতি ট্রাম্পের বিদ্বেষমূলক এ পদক্ষেপ গতকাল বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

বিজ্ঞাপন

নাগরিক আন্দোলনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় বিদ্বেষ-বৈষম্যের নানা স্মারকে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব স্মারক রক্ষায় পৃথক আদেশ জারি করেছিলেন ট্রাম্প। তাঁর এই আদেশের তীব্র সমালোচনার করেন নাগরিক আন্দোলনের নেতারা। ট্রাম্পের সেই আদেশও প্রেসিডেন্ট বাইডেন বাতিল করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় কর্মজীবীদের কর্মসংস্থান সুরক্ষার জন্য গত বছর ট্রাম্প কয়েক ধরনের ভিসা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের পেশাজীবীদের জন্য বহুল পরিচিত এইচ-১বি ভিসা, এইচ-২বি ভিসাসহ এইচ-৪, এল-১ এবং কোনো কোনো জে-১ ভিসা স্থগিত রাখার মাধ্যমে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের ১২টি উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার আগে এই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধি করেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট বাইডেন নতুন আদেশের মাধ্যমে বিভিন্ন পেশাজীবীদের ভিসা ওপর থাকা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে প্রেসিডেন্ট বাইডেন একের পর এক নির্বাহী আদেশ জারি করছেন। চার বছরে বেপরোয়া সব কাজ করে ট্রাম্প এক বিশৃঙ্খল যুক্তরাষ্ট্র রেখে গেছেন। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। ক্ষমতা গ্রহণের এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্বাহী আদেশ জারির রেকর্ড এখন বাইডেনের।