মেসির জোড়া গোলের রাতে রিয়ালের কষ্টের জয়

Advertisements

অপ্রতিরোধ্য প্রথমার্ধের পর লা লিগায় লিওনেল মেসির জোড়া গোলে এলচেকে ৩-০ তে ঘরের মাঠে হারালো বার্সেলোনা। শীর্ষ দল আতলেতিকো মাদ্রিদকে নাগালের মধ্যেই রাখলো তারা।

এই মৌসুমে ন্যু ক্যাম্পে তাদের অন্যতম বাজে প্রথমার্ধে কাতালানরা সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বললেই চলে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তারা ব্রেক থ্রু আনে। মেসির উদ্দেশ্যে মার্তিন ব্র্যাথওয়েট চমৎকার ব্যাকহিল করেন এবং আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড বাকি কাজটা সারেন।

 

গত রোববার কাদিজের বিপক্ষে এগিয়ে যাওয়ার পরও তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল বার্সা, ম্যাচ শেষ হয়েছিল ১-১ গোলের ড্রয়ে। এবার আর তেমন কিছু হয়নি। ১৮ বছর বয়সী পেদ্রির কাছ থেকে চতুর পাসে বল পেয়ে ৬৯তম মিনিটে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় গোলে অবদান রাখেন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। এই ডাচ তরুণ মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে পাস দেন মেসিকে এবং আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড ড্রিবলিং করে দারুণ শটে লিগ মৌসুমের ১৮তম গোল করেন।

ব্র্যাথওয়েটের আরেকটি অ্যাসিস্টে লেফট ব্যাক জোর্দি আলবা করেন বার্সার তৃতীয় গোল। তাতে কাতালানরা সেভিয়াকে টপকে তৃতীয় স্থানে উঠে যায়। ২৪ ম্যাচে তাদের অর্জন ৫০ পয়েন্ট। এক ম্যাচ কম খেলে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে আতলেতিকো। বার্সার চেয়ে ২ পয়েন্ট বেশি পেয়ে দুইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ (৫২)।

চ্যাম্পিয়নস লিগে ঘরের মাঠে প্যারিস সেন্ত জার্মেইর কাছে ৪-১ গোলে হারের পর কাদিজের কাছে লিগে টানা সাত ম্যাচের জয়রথ থামে বার্সার। সর্বশেষ জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে দল, বিশ্বাস আলবার, ‘আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করবে এটি। ড্রটা (কাদিজের সঙ্গে) ছিল পুরো দলের জন্য বড় ধাক্কা এবং প্রমাণ হয়েছে যে আমরা যদি শতভাগ সেরাটা না দেই তাহলে জেতা খুব কঠিন।’

@@@@@@@@

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে বুধবার রাতে আতালান্টার মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ১০ জনের ইতালির দলটির বিপক্ষে কষ্টে জিতেছে জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা। হারিয়েছে ১-০ গোলে।

আতালান্টার মাঠে শুরুতেই সুবিধা পায় রিয়াল। ১৭ মিনিটের মাথায় আতালান্টার রেমো ফ্রেউলার লাল কার্ড দেখে ফিরে গেলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইতালির ক্লাবটি। মূলত গোল করতে যাওয়া ফারল্যান্ড মেন্ডিকে ফেলে দেওয়ায় তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়।

 

তবে ১০ জনের বিপক্ষেও প্রথমার্ধে জালের নাগাল পায়নি রিয়াল। প্রথমার্ধে অন টার্গেটে মাত্র একটি শট নিতে পেরেছিল স্প্যানিশ ক্লাবটি। এমনকি দ্বিতীয়ার্ধের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত দশজন নিয়েই রিয়ালকে আটকে রাখে ইতালির ক্লাবটি। তবে ৮৬ মিনিটে জয়সূচক কাঙ্খিত গোলটি করেন রিয়ালের ফারল্যান্ড মেন্ডি। তার গোলে শেষ পর্যন্ত রেকর্ড ১৩ বারের উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল জয় পায়।

অবশ্য ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারেননি রিয়ালের হাই প্রোফাইল বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়। সেই তালিকায় আছেন করিম বেনজেমা, ইডেন হ্যাজার্ড ও রদ্রিগোর মতো খেলোয়াড়রা। তাদের ছাড়াও রিয়াল যে ইতালি থেকে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে ফিরেছে সেটাই স্বস্তির বিষয়। ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে কোনোক্রমে হার এড়াতে পারলেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হবে লস ব্লাঙ্কোসদের।