লন্ডনের রাস্তায় নগ্ন হয়ে সাইকেল চালানো কে এই তরুণী?

Advertisements

কেরি বার্নাস, একজন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। করোনাকালে এই ব্রিটিশ তরুণী করে ফেলেছেন সাহসী এক কাজ। তাও আবার মানুষের কথা ভেবে, মানুষের কল্যাণেই।

 

জানা যায়, হঠাৎ করেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে কেরি বার্নাসের খুব কাছের একজন। পরপর তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করে সে। এ ছাড়া নিজের চাচাতো ভাইও অল্প বয়সে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে শেষ করে দেন নিজেকে।

 

আর এভাবেই মানসিক যন্ত্রণায় ভোগা মানুষদের সাহায্যে এগিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আর সেজন্য অনুদান সংগ্রহের কাজে নেমে পড়েন তিনি। কিন্তু কিভাবে হবে অনুদান সংগ্রহ- তা নিয়ে আলোচনা করছিলেন নিজের রুমমেটের সঙ্গে।

 

 

রুমমেট মজা করে বলেছিলেন, তুই যদি নগ্ন হয়ে লন্ডনের রাস্তায় সাইকেল চালিয়ে বেড়াতে পারিস তাহলে হয়তো লোকজনের নজরে পড়বি।

 

 

কেরি বলেন, রুমমেটের শেষ তিনটি কথা ‘লোকজনের নজরে পড়বি’ এটাই আমার মনে লাগে। ভাবি এটা দারুণ আইডিয়া হতে পারে। কেননা আমি যখন এই সিদ্ধান্ত নেব বলে ভাবছিলাম তখন লন্ডনে কঠিন শীত পড়ছে। তাপমাত্রাও প্রায় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

এরপর হাড় কাঁপানো ওই শীতেই প্রায় নগ্ন হয়ে লন্ডনের রাস্তায় সাইকেল চালিয়ে ঘুরে বেড়ান কেরি বার্নাস। দূর থেকে দেখলে সম্পূর্ণ নগ্নই মনে হবে। কিন্তু কাছে গেলে বোঝা যাবে শুধুমাত্র যৌনাঙ্গ ঢেকে রেখেছেন ওই তরুণী। তাতেও প্রয়োজনাতিরিক্ত আবরণ নেই। বাকি শরীর অনাবৃত, তবে স্তনে লাগিয়ে রেখেছেন গ্লিটার।

 

 

তীব্র শীতে ওই অবস্থায় তাকে দেখে কেউ অবাক হয়ে তাকাচ্ছেন, কেউবা বিদ্রূপের চোখে। সেসবের পরোয়া না করেই হাসিমুখে ঘুরে বেড়ান তিনি। ক্যামেরার সামনে পোজও দেন। লন্ডনের কভেন্ট গার্ডেন, টাওয়ার ব্রিজ ও বাকিংহাম প্যালেস এলাকায় পরপর ১৪ দিন সাইক্লিং করেন তিনি।

 

সাইকেল সফর শুরু করার আগে এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, করোনাকালে মানসিক অবসাদ মারাত্মক আকার নিয়েছে। অনেকেই এর শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি আমার খুব কাছের একজন আত্মহত্যার চেষ্টা করলে আমি বিষয়টি আরও বিশেষভাবে অনুধাবন করতে পারি। বুঝতে পারি মানসিক অবসাদের প্রভাব কতটা মারাত্মক হতে পারে। তাই অবসাদের শিকার মানুষদের পাশে দাঁড়াতে দুই সপ্তাহের এই সফর শুরু করেছেন ২৯ নভেম্বর।

 

‘কেরি সাইকেলস ন্যুড’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে সফরের নানা ছবি শেয়ার করেছেন অনেকে। এর মাধ্যমে ৭০০০ ব্রিটিশ পাউন্ড অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৮ লাখ লাখ টাকা জোগাড় করার লক্ষ্য ছিল কেরির। সেই লক্ষ্য পূরণ করে আরও বেশি অনুদান সংগ্রহ ফেলেছেন।

জানা গেছে এই সংগ্রহের পুরোটাই তিনি দিয়ে দেবেন ‘মাইন্ড’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে। যার কর্মীরা মানসিক অবসাদে ভোগা রোগীদের নানাভাবে সাহায্য করেন। সূত্র : ডেইলি মেইল