প্রতিটি বস্তিতে বসবে ফায়ার হাইড্রেন্ট: মেয়র আতিকুল

Advertisements

রাজধানীর প্রতিটি বস্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফায়ার হাইড্রেন্ট (অগ্নিনির্বাপণ কাজে ব্যবহৃত বিশেষ পানিকল) বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

আগুন নেভানোর কাজে পানির প্রাপ্যতা সহজ করতে এগুলো বসানো হবে বলে জানান তিনি।

 

মঙ্গলবার (৮ জুন) মহাখালীর সাততলা বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিতে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ঢাকার উত্তর অংশে বস্তির সংখ্যা বেশি উল্লেখ করে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই এসব বস্তির খোঁজখবর নেন। কিন্তু অগ্নিদুর্ঘটনা আমাদের ব্যথিত করে। তাই ডিএনসিসির আসন্ন বাজেটে প্রতিটি বস্তিতে প্রর্যাপ্ত ফায়ার হাইড্রেন স্থাপন করতে অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের এই বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি।

তিনি বলেন, ফায়ার হাইড্রেন বসানোর পর বস্তির বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যাতে আগুন লাগলে তাৎক্ষণিক তারা আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এতে ফায়ার সার্ভিসের অপেক্ষায় থাকতে হবে না।

সাততলা বস্তির ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান সম্পর্কে আতিকুল বলেন, সাততলা বস্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারের জন্য নগদ ৫ হাজার করে টাকা, তিন বেলা খাবার, ঢেউটিন এবং প্রায় ২ হাজার টাকার শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অগ্নিদুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কেউই অভুক্ত থাকবে না। তাদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আতিকুল আরও বলেন, বস্তিবাসীরা আমাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই তাদেরকে উচ্ছেদ নয় বরং পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করা হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস তাদের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। সিটি করপোরেশনসহ সবাই নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

অগ্নিকাণ্ডের পর বিভিন্ন মহলের সাহায্যে এগিয়ে আসর প্রসঙ্গে আতিকুল বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছি। তারা প্রায় এক হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে। প্রতিটি প্যাকেটে প্রায় এক হাজার ৮শ টাকার খাবার রয়েছে। এছাড়া ব্র্যাক সহায়তা করছে। এই বস্তিতে সিটি করপোরেশনের ১৪০ জন কর্মচারী থাকেন। আমরা এই বস্তির উন্নয়নে কাজ করবো। যাদের জমিজমা আছে তাদের বস্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না।

প্রসঙ্গত ফায়ার হাইড্রেন্ট হলো পানি সংরক্ষণাগারের সঙ্গে সংযুক্ত বিশেষ পানিকল। সাধারণত রাস্তার ধারে ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন করা হয়। এই কলের সঙ্গে নল যুক্ত করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সরাসরি এই পানি আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করতে পারেন।