১০০ কি.মি. পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে এলো বাঘ

Advertisements

ভারতের সুন্দরবনে গতিবিধি লক্ষ্য রাখার জন্যে বাঘের গলায় পরানো হয়েছিল রেডিও কলার।

মে মাসের ১১ তারিখে বাঘটির অবস্থান সম্পর্কে সর্বশেষ সংকেত পাওয়া যায়; বাঘটি তখন বাংলাদেশের তালপট্টি দ্বীপে ছিল। এরপর থেকে বলা যায়, একপ্রকার ‘নিখোঁজ’ই রয়েছে এই রয়েল বেঙ্গল টাইগার।

বনবিভাগের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, বাঘটি প্রায় ১০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে চলে গেছে।

তাদের ধারণা মতে, এই দীর্ঘ যাত্রায় বাঘটি এক কিলোমিটারের চেয়েও প্রশস্ত কিছু নদী অতিক্রম করেছে। ভারতীয় সুন্দরবনের চিফ ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন ভি কে যাদব জানান, গত ডিসেম্বরে বাঘটির গলায় একটি রেডিও কলার পরানো হয়। এরপর থেকে বেশিরভাগ সময় সেটি বাংলাদেশের সুন্দরবনেই অবস্থান করেছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে যাদব বলেন, “বাঘটিকে হরিণভাঙ্গায় বসিরহাট রেঞ্জের অন্তর্গত হরিখালী শিবিরের ঠিক সামনে থেকে ধরা হয়েছিল। ২৭ ডিসেম্বর এর গলায় স্যাটেলাইট কলার পরিয়ে ফের জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। কয়েকদিন  প্রাথমিক চলাচলের পরই এটি ছোট হরিখালী, বড় হরিখালী এমনকি রায়মঙ্গলের মতো নদী অতিক্রম করে বাংলাদেশ সুন্দরবনের তালপট্টি দ্বীপে প্রবেশ করে”।

২৭ ডিসেম্বর থেকে ১১ মে- এই চার মাসের মধ্যে বাঘটি তিনটি দ্বীপ জুড়ে ভ্রমণ করে, তবে ইতিমধ্যে কলার থেকে সিগন্যাল আসা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাঘের গতিবিধি সম্পর্কে আর জানা যায় নি। তবে এ সময়ে বাঘটি মনুষ্য বসতির কাছে ঘেঁষে নি বলেই এ বন কর্মকর্তা জানান।

সুন্দরবনের জঙ্গলে মাছ, কাঁকড়া কিংবা মধু আহরণ করতে গিয়ে প্রায়শই বাঘের হামলার সম্মুখীন হতে হয় স্থানীয় জেলে আর মৌয়ালদের। গতবছর তাই ভারতীয় বন বিভাগকে রেডিও কলার সরবরাহ করে ডব্লুডব্লুএফ ইন্ডিয়া। রেডিও কলারের মাধ্যমে মূলত জঙ্গলে বাঘের গতিবিধি জানতে পারে বন অধিদপ্তর।

যাদব জানান, “যন্ত্রটিতে একটি ‘মরটালিটি সেন্সর’ও আছে, যা বাঘটির যদি কোনভাবে মৃত্যু হয় তাহলে সংকেত প্রেরণ করবে, কিন্তু এক্ষেত্রে সেটিও হয়নি। আবার বাঘটি নিরাপদে রয়েছে তেমনটিও বলা যাচ্ছে না। কারণ স্থির কোন সংকেত আসছে না আমাদের কাছে। বরং রেডিও কলারটি খুলে পড়ে গেছে বলেই এখন সবচেয়ে বেশি  সম্ভাবনা মনে হচ্ছে।

তাছাড়া সুন্দরবনের পানির লবণাক্ততাও কলারটির ক্ষতি সাধন করে থাকতে পারে। আমার ধারণা, বাঘটিকে কলার পরানোর জন্য ধরে আনার আগে এটি বাংলাদেশের সুন্দরবনেরই বাসিন্দা ছিল”।

Leave a Reply