করোনাভাইরাসের পর কোভিড ১৯ ভ্যাকসিন, বিশ্বব্যাপী ত্রাস হয়ে দাঁড়াচ্ছে চীনা টিকা

Advertisements

অধিকাংশ দেশই চিনা ভ্যাকসিনে বিশ্বাস রাখতে পারছে না।

করোনাভাইরাসের উৎস সন্ধানে নেমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রীতিমত নিশানা করেছে চিনকে। তারই মধ্যে করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েও বেইজিং পড়তে চলছে নতুন বিড়ম্বনায়। অধিকাংশ দেশই চিনা ভ্যাকসিনে বিশ্বাস রাখতে পারছে না। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, যাঁরা চিনা টিকা গ্রহণ করেছেন তাঁদের সেই দেশের মানুষদের ফাইজারের একটি বুস্টার ডোজ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহন করা হবে। দুটি দেশে চিনা টিকাকে ছাড়পত্র দিয়েছিল। তারপরেও দেখে গেছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে করোনাভাইরাসের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ চিনের তৈরি দুটি ভ্যাকসিনকেই অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

 

চিন জরুরি ব্যবহারের জন্য দুটি কোভিড ১৯ ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দিয়েছে। একটি হলে সিনোভাক আর অন্যটি সিনোফর্ম। নিজের দেশের পাশাপাশি প্রায় ৪০টি দেশে টিকা কূটনীতি অনুসরণ করে টিকা সরবরাহ করেছে। কিন্তু তারপরেও মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চিনা ভ্যাকসিন দুটি অধিকাংশ দেশেই বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ধীরে ধীরে চিনা ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্ব জুড়েই তৈরি হয়েছে সংশয়। সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে, চিনা টিকা দেওয়ার পরেই সিচেলসে প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তাই চিনা ভ্যাকসিন নিয়ে সন্দেহ ক্রমশই বাড়ছে।

চিনা টিকা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। যে দেশগুলি চিনা কোভিড ভ্যাকসিন সিনোভাক আর সিনোফর্মকে অনুমোদন দেয়নি তাদের মধ্য অন্যতম হল সৌদি আরব। ভারতও এখনও পর্যন্ত চিনের তৈরি করোনা টিকাকে অনুমোদন দেয়নি। সৌদি আরব কেবলমাত্র অস্ট্রোজেনেকা- যার ভারতীয় টিকার নাম কোভিশিল্ড, মডেরনা, ফাইজার আর জন অ্যান্ড জনসনের টিকাকেই জরুরি ব্যবহারের জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে বেশ কিছুটা হলেও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এই দেশটি।

অ্যাস্ট্রোজেনেকা, ফাইজার, মডেরনা, জন অ্যান্ড জনসন- এই টিকাগুলি ছাড়া অন্যান্য কোনও কোম্পানির তৈরি টিকা গ্রহণকারী ব্যক্তিদের জন্য পৃথক গাইডলাইন তৈরি করেছে সৌদি আরব। তবে সৌদি আরবের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে আসন্ন হজ নিয়ে। গতবছর করোনা মহামারির জন্য হজ যাত্রা বাতিল করেছিল। কিন্তু এবারও হজ যাত্রা উপলক্ষ্যে ভিড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। যাত্রীদের অধিকাংশই এমন দেশ থেকে আসবেন যাদের দেশে চিনা করোনা টিকাকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানসহ একাধিক দেশই চিনা করোনা টিকাকে অনুমোদন দিয়েছে। জুলাই মাসেই হজ যাত্রা। হজ যাত্রাকে ঘিরে নতুন করে যাতে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য সতর্কতা অবলম্ব করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এই দেশটি।

সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিনা ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্ধেগের কারণ হল উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য ঠিকমত সরবরাহ করা হয়নি। চিনা ভ্যাকসিনগুলির কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রাকাশিত রিপোর্টেও অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে কী প্রভাব পড়ছে তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলেছে, সিনোফর্ম ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল না তাদের হাতে।

Leave a Reply