শুধু সাকিবই নয়, হোল্ডিংও লাথি মেরে ভেঙেছিলেন স্ট্যাম্প!

Advertisements

তখন আইসিসির এত কড়া আচরণবিধি না থাকায় শাস্তি পেতে হয়নি ক্যারিবীয় কিংবদন্তি পেসার মাইকেল হোল্ডিংকে। ওই সিরিজে পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিংয়ের কারণে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন আম্পায়ার গুডঅল।

নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মেজাজ হারিয়ে ফেললেন বিশ্ব সেরা অল রাউন্ডার। সাত ম্যাচ খেলেও এখন পর্যন্ত একটি হাফসেঞ্চুরি না পাওয়া সাকিব আল হাসান এবার অদ্ভুত কাণ্ড করে বসলেন। প্রথমে লাথি মেরে স্ট্যাম্প ভাঙলেন, পরে ছুড়ে ফেললেন তিনটি স্ট্যাম্প। 

শুক্রবার (১১ জুন) আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে মুশফিকের বিপক্ষে আম্পায়ার এলবিডাব্লিউয়ের আবেদনে সাড়া না দেওয়ায় তিনি লাথি মেরে স্টাম্প ভাঙেন। পরে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ বন্ধ করায় তিনি তিনটি স্টাম্প তুলে নিয়ে মাটিতে ছুড়ে ফেলেন! 

এছাড়া ড্রেসিংরুমে ফেরার সময় খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গেও তার তর্কাতর্কি লেগে যায়। এমন ঘটনায় ক্ষমা চেয়েও এখন শাস্তির মুখে সাকিব। 

তবে ক্রিকেটে এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ১৯৮০ সালে লাথি মেরে স্টাম্প ভেঙেছিলেন ক্যারিবীয় কিংবদন্তি পেসার মাইকেল হোল্ডিং। ক্রাইস্টচার্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টে মাইকেল হোল্ডিংয়ের বলে একটি কট বিহাইন্ডের আবেদন নাকচ করে দেন কিউই আম্পায়ার ফ্রেড গুডঅল। এর পরপরই প্রচণ্ড রাগে নন স্ট্রাইকিং প্রান্তের স্টাম্প লাথি দিয়ে ভেঙে ফেলেন হোল্ডিং! 

তবে ওই সিরিজে পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিংয়ের কারণে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন আম্পায়ার গুডঅল। সে সিরিজের অন্য এক ম্যাচে তার সিদ্ধান্ত পছন্দ না হওয়ায় বোলিং রানআপের সময় গুডঅলকে কনুই দিয়ে গুঁতো মেরে বসেন ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলার কলিন ক্রফট। তবে পরবর্তীতে ওই আচরণের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছিলেন মাইকেল হোল্ডিং। তার উজ্জ্বল ক্যারিয়ারে ওই লাথিটাই যে কালিমা লাগিয়ে দিয়েছিল। তবে তখন আইসিসির এত কড়া আচরণবিধি না থাকায় তাকে শাস্তি পেতে হয়নি। 

তবে, সাকিব নিজের ভুল বুঝে দ্রুত ক্ষমা চাইলেও এমন অস্বাভাবিক আচরণের ঘটনাটি খতিয়ে দেখবে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা সিসিডিএম। ম্যাচের দুই আম্পায়ার ইমরান পারভেজ ও মাহফুজুর রহমান এবং ম্যাচ রেফারি মোরশেদুল আলমের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে সিসিডিএম। 

ম্যাচ শেষে বিসিবি পরিচালক ও সিসিডিএম প্রধান কাজী ইনাম বলেছেন, ক্রিকেট এমন একটি খেলা, যেখানে উত্তপ্ত একটি মুহূর্ত এসে যেতে পারে। কিন্তু আমরা আশা করি, সবসময় খেলোয়াড় তাদের মেজাজ ধরে রাখবে। যাই হোক, এটা স্বীকৃত ম্যাচ, এখানে নিয়ম আছে। ম্যাচ রেফরি, আম্পায়ারা একটা প্রতিবেদন দেবেন। নিয়ম ভাঙলে কী হয়, সেটাও সবাই জানে। আম্পায়াররা যদি আচরণবিধির লেভেল টু লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন, তাহলে শাস্তি হবে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা অথবা এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক জরিমানা। আর যদি লেভেল ফোর ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়, তাহলে নিষেধাজ্ঞা হবে কমপক্ষে পাঁচ ম্যাচের। 

  

সূত্র: সময় টিভি