কর্মস্থলে ফিরতে সীমাহীন ভোগান্তিতে শ্রমিকরা

Advertisements

চলমান কঠোর লকডাউনের মধ্যেই আজ থেকে চালু হচ্ছে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী সব শিল্পকলকারখানা। তবে গণপরিবহণসহ ব্যক্তিগত ও দূরপালস্নার যান চলাচল বন্ধ থাকায় কর্মস্থলে ফিরতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে শ্রমিকদের।

 

শনিবার রাজধানীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার শিল্পকারখানার কর্মী ও শ্রমিকদের পায়ে হেঁটে কিংবা বাড়তি টাকা খরচ করে নানা উপায়ে কর্মস্থলে ফিরতে দেখে গেছে। এদিন করোনার সংক্রমণ কিংবা মৃতু্যর চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে রাজধানীতে ফেরা হাজার হাজার শ্রমিকের মধ্যে আনোয়ার ও তার স্ত্রীও ছিলেন।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা এই পোশাক শ্রমিক জানান, তিনি ও তার স্ত্রী দু’জনেই একই কারখানায় চাকরি করেন। কিন্তু ঈদে পর কারখানা বন্ধ থাকবে এমন ঘোষণা কারণে তারা দেশে গিয়েছিলেন। যাওয়ার সময় যেহেতু গণপরিবহণ চালু ছিল তাই ধরেই নিয়েছেন গণপরিবহণ চালু হলেই আবার কারখানা খুলবে। কিন্তু তা না হওয়ায় অমানবিক ভোগান্তি সহ্য করেই তাদের ঢাকায় ফিরতে হয়েছে।

আনোয়ার বলেন, ঈদে বেতনের প্রায় সব টাকা খরচ হয়ে যাওয়া তারা শুক্রবার গভীর রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে পায়ে হাঁটতে শুরু করেন। কম টাকায় কোনো ট্রাক পেলেই তাতে কিছুদূর এসে আবার পায়ে হাঁটেন। এভাবেই প্রায় দেড় দিন পর রাজধানীতে এসে পৌঁছায় এই শ্রমিক দম্পতি।

 

এদিন আনোয়ারের মতো অমানবিক কষ্ট সহ্য করে কর্মস্থলে আসা শ্রমিকরা জানান, পেটের ক্ষুধার কাছে করোনায় আক্রান্ত কিংবা মৃতু্যর ঝুঁকি কিছুই না। তারা বলেন, রোববারের আগে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে তাহলে চাকরি হারানো খুবই সম্ভাবনা রয়েছে। এমনিতেই মহামারি চলছে তাই চাকরি বাঁচাতে করোনার ভয় উপেক্ষা করেই ৫০০ টাকার পথ ৫ হাজার টাকা খরচ করে তারা কর্মস্থলে ফিরছেন। যদি এসব শ্রমিকের অনেকের বেতনের প্রায় অর্ধেক টাকাই গুনতে হয়েছে এই যাত্রা পথে।

 

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, এর আগেও লকডাউনের মাঝে গণপরিবহণ বন্ধ ছিল কিন্তু কারখানা চালু ছিল, এখনো সেভাবে চলবে।