সরকার সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়: ফখরুল

Advertisements

বর্তমান সরকার সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা হচ্ছে দেশের আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখতে এ সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। হিন্দু ভাইদের যে দূর্গা পূজা হচ্ছে, সেখানে কতগুলো অনঅভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। সে ঘটনার জেরে চাঁদপুরের তিনজন পুলিশের গলুতি নিহত হয়েছে। এবং পুলিশ নির্বিচারে গুলি করেছে। এই যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার যে চক্রান্ত সেটা এই সরকারের চক্রান্ত। তারা এই দেশে সাম্প্রাদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়। আমরা এই সব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একই সাথে প্রকৃত অপরাধীকে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানাচ্ছি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টস ইউনিটিতে জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, আপনার দেখেছেন, কোরআন শরিফ নিয়ে রেখেছে পূজনমন্ডপে। যারা এ কাজ করেছে তারা সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্যই করেছে। দেশে স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্যই করেছে। একইভাবে আবার নির্বিচারে গুলি করেছে। সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করার জন্য, আসল জায়গা থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে নেয়ার জন্য এইসব ঘটনা তারা ঘটায়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো নিরেপক্ষ নির্বাচন সম্ভব না। সরকার নিরেপক্ষ না হলে যত ভালো লোককেই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব দেয়া হোক নির্বাচন নিরেপক্ষ করা সম্ভব না। সরকার যদি নিরেপক্ষভাবে নির্বাচন পরিচারনা না করে, তাহলে নির্বাচন নিরেপক্ষ হবে না। এজন্য আমরা পরিস্কারভাবে বলেছি আগে প্রদত্যাগ কর, নিরেপক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দাও। তারা নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। তারা (সরকার) তা করবে না। আমাদের কথা পরিস্কার, নির্বাচন নির্বাচন খেলা আর হবে না৷

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ কথাটা আওয়ামী লীগ স্বীকার করতে চায় না। আমরা যারা যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিলাম, আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম, সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত ছিলাম তারা সবাই তার ঘোষণা শুনেছিলাম। তিনি কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে ঘোষণা দিলেন, তারপরই সবাই যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে।

‘বিএনপি পালায়, আওয়ামি লীগ পালায় না’ আওয়ামী লীগ নেতার এমন মন্তব্যের জবাবে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ তো ১৯৭১ সালেই পালিয়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে পালিয়েছে, বাকিরা ভারতে পালিয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশে থেকে যুদ্ধ করেছে। আমরা কখনো পালিয়ে যাওয়ার দল না, তার প্রতিষ্ঠিত দল পালিয়ে যাওয়ার দল নয়। এখানেই লড়াই করেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমান অল্পদিন বেঁচে ছিলেন, তিনি রাজনৈতিকভাবে ৪ থেকে ৫ বছর সময় পেয়েছিলেন, এই সময়ে তিনি পুরো দেশের চেহারা পাল্টে দিয়েছিলেন। অন্যদিকে স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত এদেশকে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিল আওয়ামি লীগ। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী বলেছিলেন আওয়ামী লীগের নাম পাল্টে দিতে হবে, এটাকে বলতে হবে ‘নিখিল বাংলাদেশ লুটপাট সমিতি।’ এগুলো আমার কথা না, এগুলো ইতিহাস।

বিএনপি গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করছে; আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এ মন্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোন গণতন্ত্র? তাদের গণতন্ত্র হচ্ছে আমরা সারাজীবন ক্ষমতায় থাকব আর তোমরা সারাজীবন ধরে প্রজা হয়ে থাকবা। এটাই হচ্ছে তাদের গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্য।

জাতীয় প্রেসক্লাবে রাজনৈতিক কর্মসূচী বন্ধ ঘোষণার প্রতিক্রিযায় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ পরিকল্পনাভাবে সব জায়গা সংকুচিত করে ফেলেছে। আগে ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে আমরা সভা সমাবেশ করতাম, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেটাকে স্টেডিয়াম করে দিল। এরপর মুক্তাঙ্গনও বন্ধ করে দিল। তার আগে মানকি মিয়া এভিনিউতে সভা সমাবেশ করা হত। সেখানেও ডিভাইডার দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। প্রেসক্লাবের সামনে ছোট একটা জায়গা, সেখানেও বন্ধ করে দেয়া হল। এইভাবে গণতন্ত্র চলতে পারে না।

আয়োজিত সংগঠনের সভাপতি নূর আফরোজ খান জ্যোতির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়াপর্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, ওলামা দলের আহ্বায়ক মওলানা শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হোক, কৃষক দলের কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।