নিয়োগের কয়েক ঘণ্টা পরই পদত্যাগ করলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

Advertisements
একক দলীয় সরকারের নেতা হিসেবে আবারও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন অ্যান্ডারসন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয় অ্যান্ডারসনকে; তবে, তার শরিক জোট সরকার থেকে সরে দাঁড়ালে এবং তিনি সংসদে বাজেট পাশে ব্যর্থ হওয়ার পর পদত্যাগ করেন।

পরবর্তীতে, পার্লামেন্টে বিরোধী দলের তৈরি বাজেটের পক্ষেই বেশি সংখ্যক ভোট পড়তে দেখা যায়। সেই বাজেটে অভিবাসী বিরোধী চরম ডানপন্থী নীতির উল্লেখ রয়েছে।

অ্যান্ডারসন সাংবাদিকদের বলেন, “আমি স্পিকারকে বলেছি, আমি পদত্যাগ করতে চাই।”

“জোট সরকারের ওপর থেকে কোনো দল সমর্থন তুলে নিলে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। এটিই সুইডেনের সাংবিধানিক নিয়ম। এই নিয়ম মেনে আমি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ একটি সরকারের নেতৃত্ব আমি কখনই দিতে পারিনা,” তিনি আরও যোগ করেন।

তবে, একক দলীয় সরকারের নেতা হিসেবে আবারও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন অ্যান্ডারসন।

এদিকে তার জোট শরিক গ্রিনস পার্টি জানিয়েছে, তারা উগ্র ডানপন্থীদের তৈরি বাজেট কখনই গ্রহণ করতে পারে না।

সুইডিশ আইন অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর বিরুদ্ধে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপিদের ভোট না পড়ে, তাহলেই তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হতে পারবেন। মূলত এ কারণেই বুধবার ৫৪ বছর বয়সী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে স্বল্প সময়ের জন্য ইতিহাস গড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

দেশটির পার্লামেন্ট রিকসড্যাগের ৩৪৯ সদস্যের মধ্যে ১৭৪ জন ভোট দিয়েছেন অ্যান্ডারসনের বিপক্ষে। তবে ১১৭টি ভোট তার পক্ষে যাওয়ায় ও ৫৭ জন ভোটদানে বিরত থাকায় বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি। সুইডেনের সংবিধান অনুসারে, পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন হয় না। প্রার্থীর বিরোধিতাকারীরা ১৭৫ জনের বেশি না হলেই চলে।

ইউনিভার্সিটি সিটি অফ ইউপসালার সাবেক সাঁতারু চ্যাম্পিয়ন অ্যান্ডারসন ১৯৯৬ সালে রাজনীতিতে আসেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গোরান পারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে রাজনৈতিক কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। এছাড়া, গত সাত বছর যাবত তিনি সুইডেনের অর্থমন্ত্রী হিসেবে পালন করে আসছিলেন।

 

সূত্র: বিবিসি 

Leave a Reply