ফুটবল, মাদক, মোহ, নারী: ম্যারাডোনা চলে যাওয়ার এক বছর আজ

Advertisements
মাঠের ম্যারাডোনা যতোটা দুর্দান্ত মাঠের বাইরে ততোটাই বিতর্কিত তিনি তার বিশৃঙ্খল আর স্বেচ্ছাচারী জীবনযাপনের জন্য।

দিয়েগো ম্যারাডোনা। ফুটবলের মাঠে যিনি বদলে দিয়েছিলেন কিংবদন্তী’র চিরাচরিত সংজ্ঞা। যাকে বলা হয় ‘ফুটবলের ইশ্বর’। কিন্তু মাঠের বাইরে তার জীবন ছিল ভিন্নরকম। ফুটবলাররা নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন হয়ে নিয়মের ঘেরাটোপে নিজেদের আটকে রাখলেও অনেকটাই ভিন্ন ছিলেন ম্যারাডোনা। মাদক, মোহ এবং নারীসঙ্গ ভীষণভাবে উপভোগ করতেন এই মহাতারকা। আর তাই শেষজীবন পর্যন্ত বিতর্ক কখনো তার পিছু ছাড়েনি।

সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসাবে বিবেচিত আর্জেন্টিনার এই কিংবদন্তি, ৬০ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বুধবার বুয়েনস আইরেসে নিজের বাড়িতে মারা যান। অথচ মাত্র সপ্তাহ দুয়েক আগেই মস্তিষ্কের সফল অস্ত্রোপচার শেষে ঘরে ফিরেছিলেন তিনি।

স্পেনের বার্সেলোনা এবং ইতালির নেপোলিসহ বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা কয়েকটি ক্লাবের হয়ে খেলেছিলেন ম্যারাডোনা। আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের অধিনায়ক হয়ে ১৯৮৬ সালে দেশকে এনে দেন বিশ্বকাপ।

১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হ্যান্ড অফ গড’ নামের গোলটি করেছিলেন তিনি। একই ম্যাচের ইংল্যান্ডের ৫ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে আরেকটি গোল দেন তিনি যা ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত।

কিন্তু মাঠের ম্যারাডোনা যতোটা দুর্দান্ত মাঠের বাইরে ততোটাই বিতর্কিত তিনি তার বিশৃঙ্খল আর স্বেচ্ছাচারী জীবনযাপনের জন্য।

ফুটবল আইকন হওয়ার পাশাপাশি ইতালিতে পার্টির প্রিয় মানুষ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ছবিতে ম্যারাডোনা তার প্রাক্তন স্ত্রী এবং শৈশবে প্রেয়সী ক্লাডিয়া ভিলাফেনের সঙ্গে। পরবর্তীতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
২০০৩ সালের ডিসেম্বরে ব্যবসায়িক ভ্রমণের সময় পূর্ব চীনা শহর ওয়েনজুতে একটি নৈশভোজে ম্যারাডোনা তার চীনা বান্ধবী এবং সহযোগীদের সঙ্গে।
স্ত্রী ক্লোদিয়ার সাথে একটি পার্টিতে ম্যারাডোনা
২০ বছর বয়সী ম্যারাডোনা ১৯৮০ সালে বুয়েনস আইরেসের তার বাড়িতে তার ট্রফি ক্যাবিনেটের পাশে বসা।
ভাইদের সঙ্গে আর্জেন্টিনায় সৈকতে খেলছেন তরুণ ম্যারাডোনা
মা ডালমা সালভাদোরা ফ্রাঙ্কো এবং বাবা দিয়েগো ম্যারাডোনা সিনিয়র-এর সঙ্গে ম্যারাডোনা
পৃগিসৃ

২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ৬১তম কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সার্বিয়ান পরিচালক আমির কুস্তুরিকার ডকুমেন্টারি ফিল্ম ‘ম্যারাডোনা বাই কাস্টুরিকা’ প্রদর্শিত হয়েছিল সেখানে উপস্থিত হয়ে আর্জেন্টিনার ফুটবল খেলোয়াড় দিয়েগো ম্যারাডোনার মেয়ে জিয়ানিনা এবং ডালমা তাদের বাবাকে চুমু দিচ্ছিলেন।
স্ত্রী ক্লডিয়া ভিলাফানের সঙ্গে উরুগুয়ের পান্তা দেল এস্টে ১৯৯৯ সালের ৯ জানুয়ারি কনরাড হোটেলে এক পার্টিতে নাচছিলেন ম্যারাডোনা
১৯৯৬ সালে বুয়েনস আইরেসে তার ৩৫ তম জন্মদিনে স্ত্রী ক্লেডিয়া ভিলাফানে (ডান) এবং ফুটবল এজেন্ট গিলারমো কপোপোলার সঙ্গে ম্যারাডোনা
১৯৯০ সালে ইতালির নেপল শহরে ম্যারাডোনার এই গ্রাফিতিটি আঁকা হয়
প্রায় দেড় কেজি কোকেন রাখার দায়ে ১৯৯১ সালে ম্যারাডোনাকে বুয়েনস আইরেস অ্যাপার্টমেন্ট থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ
১৯৯৪ সালে বুয়েনস আইরেসে তার বাড়ির বাইরে একটি গাড়ির পিছন থেকে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে গুলি করেন ম্যারাডোনা। সেজন্য তাকে জেলেও যেতে হয়েছিল।
ম্যারাডোনার সঙ্গে হলিউড অভিনেতা কলিন ফারেল।
ম্যারাডোনার সঙ্গে সাবেক মার্কিন বক্সিং চ্যাম্পিয়ন মাইক টাইসন।
২০০৫ সালে ‘দ্য টেনস নাইট’ টিভি অনুষ্ঠানের আগে কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে কথা বলেছেন ফুটবল তারকা ডিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা।
২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে ক্রেমলিন প্রাসাদে ম্যারাডোনার সঙ্গে কথা বলছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

Leave a Reply